খেলা

একবিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি করলেন মিচেল স্টার্ক!

প্রিনডিভিল স্ট্যান্ড প্রান্ত থেকে বল হাতে দৌড়ে আসছেন মিচেল স্টার্ক। বিপরীত প্রান্তে প্রস্তুত ইংল্যান্ডের সেট ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্স।তার সামনে যা আসল তাকে ক্রিকেট বল বলা হচ্ছে না। কেউ বলছেন গোলা, কেউ বলছেন বজ্রপাত। মাইকেল ভন কেতাবি ভাষায় নাম দিয়েছেন, ‘একুশ শতকের বল।’ এতদিন শেন ওয়ার্নের বল অব দ্য সেঞ্চুরি নিয়ে ছিল আলোচনা।শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি কোনটি? এখন এই বিতর্কেই মেতে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।  যাকে বলা হচ্ছিল বিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি। ১৯৯৩ সালে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে এমনই এক বিস্ময়কর ডেলিভারি দিয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন। এবার সেই ইংলিশদের একজনকে বিস্ময়কর এক ডেলিভারি দিয়ে বোকা বানিয়েছেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। যাকে বলা হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি!

অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন হাফ সেঞ্চুরিয়ান জেমস ভিন্সকে তেমনই এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে ফিরিয়েছেন অজি পেসার স্টার্ক।বিস্ময়কর ওই ডেলিভারির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৩.৯ কি.মি! বাঁহাতি স্টার্ক ‘রাউন্ড দ্য উইকেটে’ নন-স্ট্রাইক স্টাম্পের বেশ খানিকটা পাশ থেকে মার্কে আসেন। বল পিচ করে লেগস্টাম্পে। স্বভাবতই ভিন্স ফ্লিক করতে যান। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো ওই গতির বল লেগব্রেক হয়ে যায়! আউট সুইং করে অফস্টাম্পে লাগে! এমনই বিস্ময়কর সেই ডেলিভারি ছিল,যে ভিন্স অনেক্ষণ ছিলেন ঘোরের মধ্যে। যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না কী হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ডে। এই ডেলিভারিকে একবিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি হিসেবেই দেখছেন বিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারির দাবিদার শেন ওয়ার্ন। তিনি তখন ওয়াইড ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই বলের সামনে ভিন্সের আসলে কিছু করার নেই। যা তার করা উচিত ছিল তা অসম্ভব। এটা নিরেট একটা লেগব্রেক। প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন নিজের টুইটারেও, ‘এটাই কি একবিংশ শতাব্দীর সেরা ডেলিভারি ?’

ওই বল খেলতে ভিন্স যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেন তা সঠিক ছিল বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘ভিন্স লেগ সাইডের যে অ্যাঙ্গেলে হিট করতে চেয়েছিলেন সেটা একেবারেই ঠিক। এভাবে সুইং করলে কিছু করার থাকে না। তিনি সোজা খেলতে পারতেন কিন্তু সেটা অসম্ভব।’ স্টার্কের এমন ডেলিভারি দেখার পর সঙ্গে সঙ্গে টুইট করে বসেন কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামও, ‘কি বিস্ময়কর ডেলিভার। তুমি আমার  দিনগুলোর কথাই স্মরণ করিয়ে দিলে। বাঁহাতিদের জন্য তুমি গর্ব।’ সাজঘরে ফেরার পর জেমস ভিন্স ম্যাচের পর দিন শেষে জানান তখনকার অনুভূতিকার কথা। স্বীকার করেই নেন বার বার এই বলটির মুখোমুখি হলে বারবারই বোল্ড হবেন তিনি!

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।