অর্থনীতি জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

জব্দ হচ্ছে চার মোবাইল কোম্পানির ব্যাংক হিসাব!

ভ্যাট ফাঁকির ৮৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে চার মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে গতকাল সোমবার চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলালিংক ও এয়ারটেল ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোবাইল ফোন সিম বিক্রিকে (নতুন সংযোগ) সিম পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়ে মোট ৮৮৩ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে এনবিআর। বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট) সুত্র জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে অথবা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। এর কোনটি না করলে তিন মাস শেষে কোম্পানিগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলটিইউ-ভ্যাট বিভাগ অভিযুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও এনেছে। অভিযোগে বলা হয়, সিম পরিবর্তনের যে সব দলিলপত্র দেখানো দরকার, কোম্পানিগুলো তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, এনবিআরের এ কার্যক্রমকে বিলম্বিত করার ‘অপচেষ্টার’ অভিযোগও এসেছে গ্রামীণ ফোনের বিরুদ্ধে। এলটিইউ-ভ্যাটের কমিশনার মতিউর রহমান চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, অভিযুক্ত চারটি কোম্পানি এনবিআরকে সহযোগিতা না করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ দলিলপত্র দিয়েও সহযোগিতা করেনি।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে এ চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানির ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্য যাচাই করে এনবিআর। তাতে নতুন করে ৮৮৩ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের নতুন ফাঁকি বেরিয়ে আসে। ফাঁকির অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণ ফোন। কোম্পানিটি ১ কোটি ৬ লাখ নতুন সিম বিক্রিকে সিম পরিবর্তন হিসেবে দেখিয়ে প্রায় ৩৭৯ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। একইভাবে রবি ৭৫ লাখ ২৫ হাজার সিম বিক্রির মাধ্যমে ২৮৫ কোটি টাকা, বাংলালিংক ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার সিম বিক্রির মাধ্যমে ১৬৯ কোটি এবং এয়ারটেল ১৩ লাখ ৬০ হাজার সিম বিক্রিকে পরিবর্তন হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। গ্রামীণ ফোনের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিটিআরসি’র (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আইন বহির্ভূতভাবে সিম পরিবর্তনের নামে নতুন সিম ইস্যু করেছে। সিম পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রও দাখিল করতে পারেনি। এছাড়া এলটিইউ’র একাধিক শুনানিতেও তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। প্রায় একই অভিযোগ রয়েছে অন্য তিন মোবাইল ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধেও। জানা গেছে, এ বিষয়ে কোম্পানিগুলোর বক্তব্য হলো – এনবিআর নতুন করে সিম পরিবর্তন ইস্যুতে ফাঁকির অভিযোগ তুলতে পারেনা। কারণ একই ধরণের অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারা এ ইস্যুতে নতুন করে দাবিনামা জারি না করা কথাও বলেছে। একই সঙ্গে যে প্রক্রিয়ায় সিম পর্যবেক্ষণ করা হয় (দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা) তা সঠিক নয় বলে তাদের দাবি। কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে তাদের এসব বক্তব্য ভ্যাট বিভাগকে জানিয়েছে। তারা বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে সমপ্রতি এনবিআর গঠিত কমিটির মাধ্যমে এ ইস্যুটির সমাধানের দাবি জানিয়েছে। দুই মাস আগে গঠন করা হয় ওই কমিটি। এনবিআর সদস্য ব্যরিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ওই কমিটিতে মোবাইল ফোন কোম্পানির প্রতিনিধি ছাড়াও বিটিআরসির প্রতিনিধিও রয়েছেন।

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।