জাতীয় শিক্ষা

তবে কি দাবি আদায় না হলে শহীদ মিনারেই মারা যাবেন হাজার হাজার শিক্ষক?

লেখকঃ সুশান্ত

জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো আজো চলছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত শনিবার সকাল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক এ অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে শিক্ষকদের এ অনশন কর্মসূচি চলছে। মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের হাজার হাজার শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এ অনশনে যোগ দিয়েছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাটি, পত্রিকা, পলিথিন বিছিয়ে পৌষের শীতের দুই রাত পার করেছেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকরা।

অনশনে জোটের নেতারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে তাদের বেতন দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। এখান থেকে বিজয় না নিয়ে তারা ফিরে যাবেন না।

পলিথিন বিছিয়ে শহীদ মিনারের পাশে তখনও শুয়ে ছিলেন পূর্ণবতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়কজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে ওলিউল্লাহ রহমান, বাইজিদ আহমেদ, কামল হোসেন, মনির হোসেনসহ আরও ককেজন শিক্ষক বলেন, ‘না খেয়ে, শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করায় আমাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। এখানে হাজার হাজার শিক্ষক খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দাবি আদায়ে আজ আমরা বাধ্য হয়েছি অনশনে। আমাদের এমন করুণ দৃশ্য কি সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়ছে না?’

শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ পরের গ্রেডে ১১তম গ্রেডে বেতন চান তারা।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ফ্রন্টের সভাপতি খালেদা আক্তার বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পূরণ করা হয়নি। দাবি পূরণ করা ছাড়া আমরা শহীদ মিনার ছেড়ে যাব না।

এদিকে, গতকাল রবিবার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শিক্ষকদের আমরণ অনশনে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।