ডাক্তারি পরামর্শ লাইফস্টাইল

পায়ের রক্তনালিতেও ব্লক হয়

হার্টে ব্লক বা রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হলে রিং পরাতে হয়—এ কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের রক্তনালিতেও এ ধরনের ব্লক হতে পারে; যেমন পায়ে। এ ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা হয়, পা ফুলেও যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে পায়ের রং কালো হয়ে যায়, কখনো কখনো পচন ধরে।
হার্টের ভালভে সমস্যা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ইত্যাদি কারণেও হাত-পায়ের রক্তনালি ব্লক হয়ে যেতে পারে। আবার ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, রক্তে অতিমাত্রায় চর্বি ইত্যাদি কারণে পায়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্লক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাঁটতে গেলে পায়ে খিল ধরে এবং ব্যথা হয়, বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে। রোগের তীব্রতা বাড়লে বিশ্রামরত অবস্থায়ও ব্যথা হতে থাকে। রক্ত চলাচল কম থাকায় সামান্য আঘাতে পায়ে ঘা কিংবা গ্যাংগ্রিন হয় এবং সহজে সারতে চায় না।
হার্টের মতো পায়েরও এনজিওগ্রাম করা যায়। ডুপ্লেক্স পরীক্ষায় পায়ে ব্লক ধরা পড়লে এনজিওগ্রাম করে রক্তনালির ব্লকের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়।
চিকিৎসা: হার্টের ব্লক দূর করার মতোই পায়ে রিং পরানো যায় বা স্টেন্টিং করানো যায়। আবার বাইপাস সার্জারি করানো যায়, প্রয়োজনে আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করে দেওয়া যায়। ইনজেকশন প্রয়োগেরও সুযোগ রয়েছে। তবে পায়ে ব্লক মানেই বার্জাজ ডিজিজ নয়। কেউ কেউ আবার পায়ের রক্তনালির সমস্যাজনিত ব্যথায় অহেতুক ব্যথানাশক ওষুধ খান, এক্স-রে কিংবা এমআরআইয়ের মতো ব্যয়বহুল পরীক্ষা করিয়ে সময় নষ্ট করেন। এতে অকালে অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। পায়ে হাত দিয়ে পালস বা নাড়ি না পেলে কিংবা স্পন্দন ক্ষীণ অনুভব করলেই বোঝা যায়, রোগীর রক্তনালিতে কোনো না কোনো সমস্যা আছে। সে ক্ষেত্রে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

লেখাটি সংগৃহীতঃ ডা. এসএমজি সাকলায়েন রাসেল

ভাসকুলার সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।