অর্থনীতি জাতীয়

বাড়তি দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বল্পআয়ের মানুষ। ৬০ টাকা কেজির নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা, চালের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো অনেক বেশি। এছাড়া গত এক বছরে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়নোর জন্য কয়েকদিন আগেই শেষ হয়েছে গণশুনানি। এ অবস্থায় নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে প্রতিদিনের বাজার তালিকা। তারা বলছেন, ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে জীবন চালানোই দায় হয়ে পড়েছে! রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় ভ্যান চালান আমজাদ। মূলত সবজি পরিবহনের কাজ করেন। দৈনিক সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আয় করেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম শুধু বাড়তাছে, কমতাছে না। গত এক বছরে আমার আয় একই আছে। কিন্তু ঘরভাড়া থেকে খাওয়াখরচ সব ধরনের ব্যয়ই বেড়েছে। জমানোতো দূরের কথা, ধার করে দেশের বাড়িতে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতে হয়।’

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসেবে গত এক বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১৬০ শতাংশ, আদা ৫২ শতাংশ, খোলা সাদা আটা ৯ শতাংশ, বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮ শতাংশ, মুগ ডাল ২৮ শতাংশ, খাসির মাংস ২৬ শতাংশ, গরুর মাংশ ১৭ শতাংশ ও ইলিশ মাছের দাম ১৫ শতাংশ বেড়েছে। চালের দাম কমার কথা বলা হলেও সংস্থাটির হিসেবে এখনো তা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির হিসেবে উল্লেখযোগ্য নিত্যপণ্যের মধ্যে বর্তমানে মোটা চাল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, সরু চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা, আটা ২৮ থেকে ৩৪ টাকা, ময়দা ৩৪ থেকে ৪৪ টাকা, ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১০৪ থেকে ১০৯ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, মুগ ডাল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৮৫ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা ও গরুর মাংশ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাস্তবে বাজারে অধিকাংশ পণ্যই এরচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে গত ৮ বছরে (২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল) রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ক্যাবের এই হিসাব ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবার তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে শিক্ষা, চিকিত্সা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ক্যাব’র হিসেবে, ওই সময়কালে এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৯৩ শতাংশ, পানির দাম ৫৬ শতাংশ এবং প্রতি কিলোমিটার বাসভাড়া ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘লাগামহীনভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। চালের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো অনেক বেশি। পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী কারসাজি করে দাম বাড়াতে পারে। এজন্য সরকারের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। কেউ কারসাজি করে দাম বাড়ালে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মূল্যস্ফীতি বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অতি বৃষ্টির জন্য খাদ্য উত্পাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। চলতি মাস থেকে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন. মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সম্প্রতি দেশে বন্যা হয়ে গেল। এতে উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। এজন্যও জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে বাজারে সরকারের কঠোর তদারকি করা উচিত। কারণ অনেক ব্যবসায়ী আছে যারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে আমাদের ভোক্তাদের সংগঠিত হওয়া উচিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদী হবে না। সামনে আমন ও পরে বোরো আবাদ ভালো হলে চালের দাম কমবে।

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।