জাতীয় রাজনীতি

শীত উপেক্ষা করে রংপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তার চেয়েও আগ্রহী রংপুরের ভোটাররা। তাইতো তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করেও ছুটছেন ভোট কেন্দ্রের দিকে।সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। বিরতিহীনভাবে চলা ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৪টায়।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) ভোটগ্রহণকে ঘিরে সকাল থেকেই নগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লাসহ ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রে বইছে ভোট উৎসবের আমেজ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে পুরো নগরী। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে এই সিটিতে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীক না থাকলেও এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এবার মেয়র পদে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে লাঙ্গল নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। ত্রিমূখী এই লড়াইয়ে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে নিকটতম পরাজিত প্রার্থীর ভোটের বিশাল ব্যবধান হওয়ারও ধারণা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

মেয়র পদে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল), আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা), বিএনপির কাওছার জামান বাবলা (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের আবদুল কুদ্দুস (মই) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার (আম) এবং একমাত্র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে হেভিওয়েট তিন মেয়র প্রার্থী পরস্পরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, কাউন্সিলরের ওপর প্রতিপক্ষের হামলা-ছুরিকাঘাত, নির্বাচনী অফিসে আগুন, দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের থানা ঘেরাওসহ নানা কারণে ভোট উৎসবের আমেজের পাশাপাশি বিরাজ করছে উত্তাপ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা। যদিও পুরো নগরীর নিয়ন্ত্রণ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্যের হাতে।

চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে র‌্যাব-বিজিবি, পুলিশ, আনসারসহ মোবাইল টিমে ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন টহলে।  প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১ হাজার ১২২টি গোপন কক্ষে চলছে ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে ২৫নং ওয়ার্ডের ১৪১নং ভোটকেন্দ্র সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে ডিভিএম এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে আগের মতোই ব্যালট পেপারে সিলের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। এদিকে ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে রংপুর সিটি এলাকায় সরকারি ছুটি রয়েছে।

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।