জাতীয়

সড়ক বন্ধ করে চলে উন্নয়ন কাজ!

মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৮নং প্রধান সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে চলছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উন্নয়ন কাজ। একই অবস্থা বি ব্লকের ১নং এভিনিউর সড়কের। পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সড়ক দিয়ে কোন যানচলাচল করতে পারছে না। ওয়ার্ডের অন্য সড়কগুলোরও বেহাল দশা। অন্যদিকে মিরপুর বেগম রোকেয়া সরণী ও আশপাশের ফুটপাত পুরোপুরি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা করছে হকাররা। ফুটপাতে একটুও হাঁটার জায়গা নেই। উন্নয়ন কাজও চলছে ধীরগতিতে। সবমিলিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই এই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। ডিএনসিসির তথ্য মতে, মিরপুর ১০ সেকশন ও ১১ নম্বর সেকশনের ব্লক সি এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের হোল্ডিং সংখ্যা ৩ হাজার ১৫০টি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের গোল চত্বর ও আশপাশের সড়কের ফুটপাত পুরোটাই দখলে হকারদের। মানুষের হাঁটার কোনো জায়গা নেই। কাপড় থেকে শুরু করে হরেক রকমের পণ্য বেচাকেনা করছে হকাররা। এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা হকারদের নিয়ন্ত্রণ করে। হকার মাথাপিছু প্রতিদিন ৫০ টাকা চাঁদা আদায় করে চক্রটি। ফুটপাত ঘিরে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য করে ওই চক্রটি।

অপরদিকে সড়ক খুঁড়াখুঁড়িতেই বছর পার হয়েছে বি ব্লকের ১নং এভিনিউর প্রধান সড়কটির। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। সিটি করপোরেশনের বোর্ডে কাজের এমন তথ্য লেখা থাকলেও বাস্তবে শেষ হয়নি উন্নয়ন কাজ। সেকশনের প্রধান এই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফেলে রাখা হয়েছে বড় বড় লোহার খুঁটি। এছাড়া গার্মেন্টেসের ঝুট কাপড়গুলো বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে সড়ক দিয়ে যানচলাচল বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গেছে, এ সেকশনের ভেতরের সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে আছে বাড়ির মালিকরা। কয়েক মাস আগে সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে কিছু জায়গা উদ্ধার করলেও বর্তমানে অভিযান থমকে আছে বলে জানা গেছে। মিরপুর ১১নং সেকশনের সি ব্লকের এভিনিউ ৫, সি ব্লকের ১২ নং সড়কের উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ড্রেনের ময়লা। উভয় পাশে রাখা হয়েছে পুরাতন রিকশা। রাস্তার পানি পাশের বস্তির ঘরগুলোতেও প্রবেশ করছে। মিরপুর সাংবাদিক কলোনিসংলগ্ন এই অংশটিতে ময়লা-আবর্জনার কারণে চলাফেরা করাই দায়। দুর্গন্ধময় পানি এলাকাবাসীর জন্য দুঃসহ যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ওয়াসার পানি পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিফট করে ওয়াসা পানি বণ্টনের ফলে এই পানি সংকট বলে জানা গেছে। ১০নং সেকশনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. সাদি ইত্তেফাককে বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজে এত ধীরগতি তিনি কখনও দেখেননি। তিনি বলেন, এই সেকশনে ওয়াসার পানি দিনে পাওয়াই যায় না। রাত ১২টার পরে একবার পানি দেয়, কিন্তু এই পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারা যায় না। ১১ নম্বর সেকশনের ব্যবসায়ী এম জাহিদ হাসান বলেন, এসব নিউজ করে কী হবে। এটা এমনই থাকবে। জনপ্রতিনিধিরা নিজের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করলে এমন দুর্ভোগ হত না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। রাতে পাড়ায় মাদক সেবন করে বখাটেরা। পুলিশ জানলেও এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাক’কে মোবাইল ফোনে বলেন, কোন কাজেই ধীরগতি নেই। বৃষ্টির কারণে কাজ সম্পন্ন করতে দেরি হয়েছে। এলাকায় আগের যেকোন তুলনায় উন্নয়ন কাজ বেশি চলছে।

ফেসবুক মতামত

জন মত দিয়েছেন

Show Buttons
Hide Buttons

সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।


সর্বশেষ খবর জানতে ফেসবুক এ আমাদের সাথে থাকুন

আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে থাকি আপনারই জন্য। আমরা চাই আপনারা জানুন "সদ্য সংবাদ, সবার আগে"।